বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানো এবং গালিগালাজ করার ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ভিডিও গণমাধ্যম ‘দ্য নিউজ’-এ প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় সংগঠনটি।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আব্দুর রহিম ভূইয়াকে অব্যাহতি দেওয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একই বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শনিবার সকালে সেখানে বাবার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন সেখান থেকে বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল ও নিরাপত্তা টিমের সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম ভূইয়ার আকস্মিক বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা টিমের সদস্যদের লক্ষ্য করে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুইয়াসহ কয়েকজন নেতাকর্মী অত্যন্ত উত্তেজিত ও উগ্র আচরণ করছেন। ওই সময় তাঁদের মধ্য থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চরম গালিগালাজ করতে শোনা যায় এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা টিমের গাড়ির দিকে তেড়ে যেতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটদুনিয়ায় ব্যপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের অনেকেই কমেন্ট বক্সে ছাত্রদল নেতার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তুলোধুনো করেছেন। সাধারণ নাগরিকদের বক্তব্য, দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বাহিনী এসএসএফের সদস্যদের সঙ্গে একজন রাজনৈতিক কর্মীর এমন উগ্র ব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ভিডিওর সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।







