বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ এখনও অনুকূলে নয় বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ। তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, বিদ্যুৎ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
রিয়াদ মাহমুদের ভাষায়, “যখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে তখনই উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগের কথা ভাবেন। বর্তমানে সেই স্থিতিশীলতা নেই, তাই নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে কেউ আগ্রহী নন।”
তিনি ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকেও বিনিয়োগে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, অনেক ব্যাংক বিভিন্ন কারণে সক্ষমতা হারিয়েছে, ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিজেদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকাই বড় সাফল্য। ন্যাশনাল পলিমারের দীর্ঘদিনের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে তিনি পণ্যের মান বজায় রাখাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে দেশের উৎপাদন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ আখ্যা দিয়ে রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ক্যাপটিভ পাওয়ার সুবিধা থাকায় তাদের উৎপাদন সচল থাকলেও সামগ্রিকভাবে উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াও ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে তিনি কাঁচামালের ওপর নতুন করে শুল্ক না বাড়ানোর আহ্বান জানান। তার মতে, শুল্ক বাড়লে উৎপাদন ব্যয় ও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা বিক্রি কমিয়ে শিল্পকারখানার সক্ষমতার অপচয় ঘটাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দান নয়, বরং কার্যকর কর্মপরিচালনা মূলধন সহায়তা প্রয়োজন। তা না হলে অর্থের অভাবে অনেক সচল প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জর্জিয়ার অনারারি কনসাল হিসেবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিয়াদ মাহমুদ। তিনি জানান, বাংলাদেশি পণ্য বিশেষ করে ফুটওয়্যার জর্জিয়ার বাজারে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চলছে।
