১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে তিনি আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন এবং রাতে সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর দিনভর বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে সৈন্য ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মেজর রেজাউল করিম রেজা।
ঘটনার দিন ঢাকা সেনানিবাস থেকে একাধিকবার ফোন করে জেনারেল মঞ্জুরকে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ–এর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানানো হয়। তবে মঞ্জুর দুবারই কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। প্রত্যক্ষদর্শী মেজর রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, মঞ্জুর স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “আই ক্যান নট টক টু এরশাদ।”
পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে গেলে ৩১ মে রাতে চট্টগ্রাম সেনানিবাস ছেড়ে পরিবার ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে পালিয়ে যান জেনারেল মঞ্জুর। পথে গোলাগুলির মুখে পড়ে তারা দিক পরিবর্তন করেন এবং এক পর্যায়ে একটি চা-বাগান এলাকায় আশ্রয় নেন।
সেখানে সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করার সময় দূরে পুলিশ সদস্যদের দেখতে পান মঞ্জুর। তখন তিনি সংঘর্ষ এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের আগে তিনি পুলিশকে সামনে না আসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি নিজেই তাদের কাছে যাচ্ছেন।
পরে তাকে ও তার সহযোগীদের হাটহাজারী থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সেনাসদস্যরা তাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইলে মঞ্জুর প্রথমে যেতে অস্বীকৃতি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে হাত ও চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে জেনারেল মঞ্জুর নিহত হন। তার মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন ছিল।
অন্যদিকে, বিদ্রোহ দমনের পর ১ জুন ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ–এর নেতৃত্বে একটি দল কাপ্তাই সড়কের পাশে একটি গোপন কবর থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তার মরদেহ হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠানো হয়।
সূত্র: বিবিসি
