যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করে পা কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে। আজ সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই মামলায় বর্তমানে তিন আসামি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁরা হলেন— চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। অন্যদিকে, মামলার মূল অভিযুক্ত তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুলসহ বাকি পাঁচ আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, গত ২০ এপ্রিল এই আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর চূড়ান্ত আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। আদালত তাঁদের বক্তব্য শোনার পর মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন।
প্রসিকিউশনের দায়ের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আটকের পর নিয়ম অনুযায়ী আদালতে হাজির না করে তাঁদের ওপর টানা দুই রাত অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ওই দুই নেতার পায়ে সরাসরি গুলি করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিবিরের এই দুই নেতার ক্ষতস্থানে নির্মমভাবে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং পরে তাঁদের একটি মিথ্যা অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়। পুলিশের সাজানো সেই অস্ত্র মামলাটি পরবর্তীতে আদালতে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তবে আটকের পর পায়ে গুলি করে বালু ঢুকিয়ে রাখার কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরে এবং জীবন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা দুই নেতারই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।







