নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকার হিসাব নিয়ে এক মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন আটকে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে সোনারগাঁ উপজেলার গোপেরবাগ এলাকার ঈদগাহ মাঠে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। গোলজার হোসেন নামের ওই ব্যক্তির জানাজায় অংশ নিতে আসা শত শত মুসল্লির সামনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সনমান্দি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধানের সাথে মৃত গোলজার হোসেনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল এবং তিনি মৃতের কাছে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে জানাজার জন্য লাশ ঈদগাহ মাঠে আনা হলে ওই বিএনপি নেতা পাওনা টাকার বিষয়টি সামনে এনে জানাজা ও দাফনে সরাসরি বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই আকস্মিক ঘটনায় মরহুমের স্বজনরা জানাজা মাঠে শত শত মানুষের সামনে চরম বিব্রতকর ও অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। একপর্যায়ে মৃত ব্যক্তির অসহায় পরিবারের সদস্যরা সায়েম প্রধানের পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধের জোরালো আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং এরপর জানাজা সম্পন্ন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা হজরত মিয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, পাওনা টাকা আদায়ের অধিকার যে কারও থাকলেও, একজন মৃত মানুষের শেষ বিদায়ের মতো ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে জিম্মি করে এমন অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে জানাজা আটকানোর এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সায়েম প্রধান। তাঁর দাবি, তিনি জানাজার নামাজ আটকাননি, বরং তাঁর পাওনা ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বহুবার তাগাদা দিয়েও না পাওয়ায় বিষয়টি সমাধানের জন্য সেখানে কথা বলেছেন। পরবর্তীতে মৃতের পরিবারের সদস্যরা আগামী রোববার টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক (টিক্কা খাঁন) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি জানাজায় উপস্থিত না থাকলেও অন্যদের কাছ থেকে এই দুঃখজনক ঘটনাটি শুনেছেন। এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে এবং শেষ বিদায়ের মুহূর্তে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
