কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে জুয়ার আসর বসানোর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন দুলালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আলম, যিনি উপজেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বাবুল মিয়ার ছোট ভাই।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বসে জুয়া খেলতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ওই ভিডিওতে জুয়ার আসরে মত্ত অবস্থায় যুবদল নেতা মাহবুব মেম্বার, বিএনপি নেতা এরশাদ জামান এবং রুবেল মিয়াকেও দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় ছুটির পর রাতের বেলায় দীর্ঘদিন ধরে ওই শ্রেণিকক্ষে জুয়া ও মাদকের আড্ডা বসত এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এমন কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান অভিযুক্ত মাসুদ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জুয়েল মিয়া এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সুমন মিয়ার সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্র পরিবেশ ব্যবহার করে এমন অবক্ষয়মূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে খুব দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ভিডিওটি ইতোমধ্যে তাঁদের নজরে এসেছে এবং এসআই আল-আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করছে। ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
