বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যাংকটির নিজস্ব অর্থই ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কাগুজে বা শেল কোম্পানির নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে সেই অর্থে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৭২ শতাংশ শেয়ার ক্রয় করা হয়।
বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে এস আলম গ্রুপ ২২ জন প্রক্সি শেয়ারহোল্ডার এবং একাধিক সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ব্যাংকটির শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। শেয়ার ক্রয়ের অর্থের বড় অংশ এসেছে ইসলামী ব্যাংক ও গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ থেকে।
তদন্তে দেখা গেছে, প্রথমদিকে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে শেয়ার কেনা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সহযোগী কোম্পানি ও শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করে।
বিএফআইইউ আরও জানিয়েছে, দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনা শেয়ারের ক্ষেত্রেও এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যাংকটিতে গ্রুপটির প্রকৃত মালিকানা প্রায় ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এ ঘটনায় হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, ২৪টি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার কীভাবে বৈধ হিসেবে গণ্য করা যায় এবং কেন তা বাজেয়াপ্ত করা হবে না। আদালত সংশ্লিষ্ট শেয়ারের লভ্যাংশ ক্রোক, ভোটাধিকার স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশও দিয়েছেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার মধ্যে ১৫টিই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে, যাদের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আবার ব্যাংকের শেয়ার কেনার অর্থায়নেও ভূমিকা রেখেছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ূম বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ৫ শতাংশের বেশি এবং অনুমোদনসহ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারে না। তার দাবি, এস আলম গ্রুপ এ সীমা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর রুমী আলীর মতে, শেয়ার ক্রয়ের অর্থের প্রকৃত উৎস এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা গেলে মালিকানার বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







