একজন ঋণখেলাপী, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দলকানাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যিনি একটি গার্মেন্টস কোম্পানি চালাতে পারেন না, তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর করা বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্বের ইতিহাসেই এক বিরল ঘটনা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পলাতক ফ্যাসিস্টের দোসরকে সরানোর আহ্বান জানান। দেশের হাজার হাজার গ্রাহকের লাখো কোটি টাকার আমানত নিয়ে ছিনিমিনি না খেলার হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বুলেট বা গুলি চালিয়ে পার পাওয়া যাবে না এবং প্রয়োজনে তিনিও মাঠে নেমে বুলেটের সামনে বুক পেতে দেবেন।
সরকারের তিন মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যায়ন করার মতো সময় এখনো আসেনি, তবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং দেশও তেমন ভালো নেই। মাত্র তিন মাসের মাথায় এসে সরকারের মন্ত্রী ও এমপিদের মাঠে-ময়দানে সাধারণ মানুষের “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান শুনতে হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারকে ‘রাতের সরকার’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে তারা সংসদ ও সংসদীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এছাড়া জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে গায়ের জোরে সংসদে টেবিল চাপড়ানো হয়েছে এবং সকল অধ্যাদেশকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে।
গণভোটকে জনগণের চূড়ান্ত রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বানচালের চেষ্টার মাধ্যমে দেশবাসীকে অপমানিত করা হয়েছে, যার প্রতিশোধের ছাইচাপা আগুন একদিন জ্বলে উঠবে। তিনি বিএনপি ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, গণভোটের প্রচারণার সময় হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেও এখন তারা জাতির সাথে চরম প্রতারণায় লিপ্ত রয়েছেন।
নিজেদের ‘গুপ্ত’ বলার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, তাঁরা কারাগারে থেকে এদেশেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, কোনো দাসখত দিয়ে বিদেশে যাননি। তাঁরা গুপ্ত হয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে দেওয়ার ফলেই আজ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যেতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জামায়াত সব সময় সরকারের ভালো কাজের সহযোগিতা করবে এবং অন্যায় কাজের বিরোধিতা করে যাবে। দেশের মানুষের কপাল বদলানোর জন্য জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
