জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, “১৯৪৭ আমাদের ভিত্তি, ১৯৭১ আমাদের গৌরব এবং ২০২৪ আমাদের পরিবর্তনের পথনির্দেশক।” তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হয়নি। ধর্ষণ, হত্যা, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, গণভোটে বিপুল সংখ্যক ভোটার ‘হ্যাঁ’ বললেও পরবর্তীতে সেটিকে অস্বীকার করে জনগণের মতামতকে অসম্মান করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করলে তার রাজনৈতিক পরিণতি সরকারকেই বহন করতে হবে।
ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, একীভূত করা কয়েকটি ব্যাংকের গ্রাহকরা এখনো অর্থ উত্তোলনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অথচ সমস্যার কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না। ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ব্যাংকটির মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এক মাসের ব্যবধানে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। রাতের বেলায় মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে যারা গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারাই এখন এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এটি জনগণের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই আইনি কাঠামোর আওতায় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে একটিকে বৈধ এবং অন্যটিকে অবৈধ বলা যায় না বলেও তিনি মত দেন।
সরকারের বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে। তিনি দাবি করেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা পূরণে দলটি কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু জনগণের সমর্থন নিয়ে টিকে রয়েছে। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান।
