চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার বাসিন্দা মুন্না দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মতিঝিলে ফুটপাতে ছোট একটি ভাতের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে শরীফ ম্যানসনের গলিতে দোকান চালিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি।
মুন্নার স্ত্রী রুপা বাসা থেকে রান্না করে দিতেন। সেই খাবার এনে ফুটপাতে বিক্রি করতেন মুন্না। তাদের সংসারে রয়েছে ৫ বছর বয়সী ছেলে রাহী ও ২ বছরের ছেলে ইব্রাহীম।
অভিযোগ উঠেছে, মতিঝিল এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহিদ ও ছাত্রদল নেতা শুভ ঈদকে কেন্দ্র করে মুন্নার কাছে এককালীন ৩০ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মুন্না চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দোকান ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ছোট দুই সন্তানের কথা বলেও চাঁদাবাজদের মন গলাতে পারেননি তিনি।
একপর্যায়ে মুন্নার ছোট্ট দোকানটি ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান তিনি।
গত ২৩ মে রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিচারের আশায় গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনের দিকে যান মুন্না। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গতিরোধ করেন।
মুন্না তার সমস্যার কথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও জানান। তবে কোনো সমাধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।
একপর্যায়ে তিনি আত্মাহুতির উদ্দেশ্যে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।







