চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সচিবালয় বিভাগের সংস্থাপন শাখায় ‘সড়ক তদারককারী’ পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মো. শহীদুল ইসলাম (৩২)। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের বাইন্যা ঘোনা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মজিদের ছেলে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চসিকের সংস্থাপন শাখায় গত ১৬ মে ‘সড়ক তদারককারী’ পদে নিয়োগের জন্য ৬২ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে নিয়োগের জন্য সম্প্রতি চূড়ান্ত অনুমোদন ও সুপারিশ করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এই ১৫ জনের তালিকার ১৩ নম্বরেই রয়েছে ছাত্রলীগ নেতা ও বহু মামলার আসামি শহিদুল ইসলামের নাম।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে চট্টগ্রামের কতিপয় বিএনপি নেতার মাধ্যমে সিটি মেয়রের কাছে জোর লবিং চালাচ্ছেন শহীদুল ইসলাম। চসিকে এই ছাত্রলীগ নেতার নিয়োগের তৎপরতার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির একটি মামলায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমি চট্টগ্রামে বড় হয়েছি। রাজনীতি করলে চট্টগ্রামেই করতাম। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার অনেকগুলোই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন এবং খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।







