কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পারিবারিক কবরস্থান ও বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই নেতার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এক নেতার সঙ্গে আঁতাত করে এই ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত আলী খান বাবুল।
অভিযুক্তরা হলেন—অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ এবং অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সজু মিয়া।
ভুক্তভোগী বাবুল অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মামলার শিকার হয়ে ২০১০ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাঁর ৯.৫ শতাংশ পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সজু মিয়া।
তিনি আরও জানান, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে তিনি জমি উদ্ধারের চেষ্টা চালান। কিন্তু জায়গাটি ফিরে পেতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও শুধু আশ্বাস আর সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছুই পাননি।
বাবুল বলেন, নির্বাচন-২০২৬ এর ঠিক কয়েকদিন আগে তাঁর বাড়ির সামনের অংশে থাকা পারিবারিক কবরস্থানটি টার্গেট করা হয়। যেখানে তাঁর আপন চাচির কবর রয়েছে, সেই পবিত্র স্থানটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের উপস্থিতিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে একটি আধাপাকা টিনশেড ভবন তুলে ‘বিএনপি কার্যালয়’র সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কবরস্থান দখল করে দলীয় কার্যালয় বানানোর মতো জঘন্য অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বাবুল এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘কারও জায়গা দখল করে অফিস করা হয়নি। জায়গার সব কাগজপত্র আমাদের হাতে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’
