রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আইনজীবী শিশির মনির।
রোববার (৮ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পূর্বে ঘোষিত অন্যান্য সুবিধাও বহাল থাকবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দীর্ঘমেয়াদে থাকার অঙ্গীকার করে এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন ও সন্তানরা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এবং এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজীবন ওষুধ ব্যতীত অন্যান্য সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে পাবেন। এছাড়া আদ্-দ্বীন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে। মেডিকেল কলেজসহ উচ্চ ব্যয়সম্পন্ন শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি বা টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রাখা হবে। পাশাপাশি পরিবারের যোগ্য সদস্যদের জন্য আদ্-দ্বীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় পেয়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত শুনানির কোনো আইনগত সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়।
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পর্যবেক্ষণে থাকা ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ কারণে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
