প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সাফল্য এর আকারের ওপর নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ প্রশাসন এবং ধারাবাহিক কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বাজেট পর্যালোচনা তুলে ধরেন।
সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা। বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বাজেটে দেখা যাচ্ছে।
সিপিডি উল্লেখ করে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় মানব উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বাজেটের আকার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় হলেও সেটি সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। বাস্তবায়ন সক্ষমতা দুর্বল হলে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি, নীতির কার্যকর প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সিপিডির মতে, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যারা নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবে এবং জনগণের জন্য দৃশ্যমান সুফল নিশ্চিত করবে। শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং সেই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হচ্ছে কি না, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই সরকারের প্রথম বড় অর্থনৈতিক নীতিপত্র, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করা সম্ভব হবে।
সিপিডির মূল্যায়নে বলা হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করার যে লক্ষ্য বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে, তার বাস্তব অগ্রগতি আগামী দিনের প্রধান মূল্যায়নের বিষয় হবে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে এর আকার দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের গুণগত মান এবং জনগণের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব দিয়ে।







