বরগুনার পাথরঘাটায় মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) সকালে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিজানুর রহমান পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সফেজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মিজানুর রহমান বাসার সামনে নিজের রিকশাটি চার্জে বসিয়ে রাত ১১টার দিকে ঘরে ফেরেন। এরপর রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে গভীর রাতে তিনি কখন এবং কেন ঘর থেকে বের হয়েছিলেন, তা পরিবারের কেউ টের পাননি।
শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর স্থানীয় লোকজন বাড়ির সামনের সড়কে মিজানুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার জানান, রাতে স্বাভাবিকভাবেই সবাই ঘুমাতে গিয়েছিলেন। সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে স্বামীর এই নৃশংস মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতার অভিযোগ তুলে নিহতের বড় ভাই শাহজাহান মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর আগে প্রতিপক্ষ নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে তাঁদের পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টাও করেছিল, যা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জমি বিরোধের জের ধরেই মিজানুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এনাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ… সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।







