রাজধানী ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নবিষয়ক তৃতীয় উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা।
মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালের যানজট কমাতে পূর্বাচলে অস্থায়ী ডিপো স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে বাসগুলো সেখানে অবস্থান করবে এবং যাত্রী ওঠানোর সময় টার্মিনালে প্রবেশ করবে। একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও বিকল্প স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।
তিনি জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি কার্যকর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মহাখালী এলাকায় সড়কে বাসের দীর্ঘ সারি বন্ধ করতেই পূর্বাচলে ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কাজে দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে আরও শৃঙ্খলার আওতায় আনার পাশাপাশি কাঁচপুরে নির্মাণাধীন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে গুলিস্তান এলাকার বাস ও টার্মিনাল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
সভায় বহুল আলোচিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। প্রকল্পটি বাতিল না করে কীভাবে আরও কার্যকর গণপরিবহন করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উচ্ছেদের পরিবর্তে পুনর্বাসনের মাধ্যমে হকারদের একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
