দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকা ইউনিয়নের নাম নিয়ে সংসদে বিতর্ক, প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি এলাকায় নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নাম তাঁর দুই সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় জাতীয় সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি কেবল কাকতালীয় মিল।
সম্প্রতি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার অংশ নিয়ে মোকামতলা নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়। এর আওতায় সৈয়দপুর ইউনিয়ন ভেঙে ‘সীমান্ত’ এবং দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে ‘দিগন্ত’ নামে দুটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘মীরবাড়ি’ নামেও একটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দেয়। উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত নামে পরিচিত।
সোমবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ নিরুৎসাহিত করা হলেও প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। তিনি এটিকে অতীতের ব্যক্তি-নির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ইউনিয়নগুলোর নামকরণ জেলা প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী হয়েছে এবং এর সঙ্গে তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নটির অবস্থান সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় এ নাম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দূরবর্তী অবস্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ‘দিগন্ত’ নামটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর সন্তানদের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নামের মিল থাকলেও নামগুলোর আগে ‘মীর’ শব্দটি নেই, ফলে এগুলোকে ব্যক্তিনির্ভর নামকরণ বলা যাবে না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, যদি কেবল নামের মিলের কারণে অভিযোগ তোলা হয়, তাহলে ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেন কিংবা ‘দিগন্ত টাওয়ার’কেও তাঁর সম্পত্তি বলে দাবি করা যেতে পারে। তাঁর এ মন্তব্যে সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের নাম নির্ধারণের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের হাতে থাকলেও কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করার বিধান নেই। ফলে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।







