খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ভদ্রা নদী পুনঃখননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের ওপর ফেলায় শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পুনর্বাসনের আগেই ঘরবাড়ি মাটিচাপা পড়ায় অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা পারুল বেগমের ঘর এখন পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা। নিজের ঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে ইট খুলে সংগ্রহ করছেন তিনি, ভবিষ্যতে আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করার আশায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের কাজ চলাকালে কোনো ধরনের পুনর্বাসন ছাড়াই ঘরের ওপর মাটি ফেলা হয়েছে। এতে চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেড় শতাধিক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই বর্তমানে চুকনগর গরুর হাটের মাঠে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেখানে নেই পর্যাপ্ত টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা কিংবা নিরাপদ আবাসন।
বাসিন্দারা জানান, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও বাথরুমসহ সবকিছু মাটির নিচে চাপা পড়েছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং পানিতে তলিয়ে যায় অস্থায়ী আশ্রয়স্থল।
চুকনগরের পাশাপাশি কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৩টি এবং বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৪টি ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ঘরের চাল ভেঙে গেছে, কোথাও দরজা-জানালা মাটিচাপা পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা শুধু আশ্বাসই শুনছেন। তবে স্থায়ী পুনর্বাসন কিংবা কার্যকর সহায়তা এখনও পাননি।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী খনন প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই কেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের ওপর মাটি ফেলা হলো। এ ঘটনায় দায়িত্ব নির্ধারণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।







