গণভোটে প্রদত্ত গণরায়ের বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করা, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও পুশইন বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আগামী ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম।
তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি, যা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করছে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্র ও সরকারের সাংবিধানিক এবং নৈতিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিস্তা ইস্যুতে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সরাসরি জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ন্যায্য পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও পুশইনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি। এ বিষয়ে সরকারকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং বিভিন্ন জনদুর্ভোগে সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গণসমাবেশে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে জনগণ তাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। রংপুরের বিভাগীয় সমাবেশও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দাবি-দাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ গণমঞ্চ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ১১ জুলাইয়ের সমাবেশ সফল করতে সর্বস্তরের জনগণ, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
