কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে বিভ্রান্ত ও প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাত ১১টার দিকে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক নারী হাছিনা আক্তার (৪০) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, হাছিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন। একই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি চেয়ারম্যানের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। মঙ্গলবারও তিনি একইভাবে যোগাযোগ করলে চেয়ারম্যানের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পেকুয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক নারী নিজেকে কখনো গোয়েন্দা কর্মকর্তা, আবার কখনো বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন। তার কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই নারী ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একটি শিশু বিক্রির বিষয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার পরিচয়, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, তদন্ত শেষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
