ফেনীতে দুই ভাগে বিভক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নিতে সাধারণ মানুষকে নগদ টাকা এবং গ্রেপ্তার হলে দ্রুত জামিনের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দলটির একাধিক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, মিছিলে অংশ নিলে অর্ধেক মাসের সমপরিমাণ বেতন বা মাথাপিছু ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো কারণে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে জামিনে মুক্ত করে আনার শতভাগ নিশ্চয়তাও দিচ্ছে দলটির শীর্ষ নেতারা।
সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেনীতে বর্তমানে আওয়ামী লীগ দুটি গ্রুপে বিভক্ত। যার একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছেন ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনের এমপি আলাউদ্দিন নাসিম এবং অপর গ্রুপটি চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। বর্তমানে এই দুই গ্রুপই ফেনী শহরে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দিতে ঝটিকা মিছিল করাতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারত থেকে আলাউদ্দিন নাসিম এবং মালয়েশিয়া থেকে নিজাম উদ্দিন হাজারী সরাসরি এই ঝটিকা মিছিলগুলোর আর্থিক জোগান ও তদারকি করছেন। আর মাঠ পর্যায়ে তাদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন ফেনী সদর, পৌর, দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা।
গোয়েন্দা সংস্থা ও দলটির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে, পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আইনি জটিলতা কমাতে আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রধান টার্গেট এখন কোমলমতি শিশুরা। শিশুদের মিছিলে আনলে সহজে ও দ্রুত জামিন করানো যায়—এমন কৌশল থেকেই তাদের বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে শহরের মাস্টারপাড়া, স্টেশন রোড কিংবা নিজাম হাজারীর বাড়ির আশপাশের এলাকায় হুট করে এই ঝটিকা মিছিলগুলো নামানো হয়। তবে আওয়ামী লীগের এই হঠাৎ তৎপরতা বৃদ্ধির পেছনে পুলিশের একটি গোপন চক্র, বিএনপির কতিপয় সুবিধাভোগী নেতা এবং কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীরও পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলে জোরালো সন্দেহ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গত ১৭ জুন সকালে ফেনী শহরের স্টেশন রোডে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোনেম শাহরিয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন—মো. জামিউল ইসলাম রাসেল, ইসতিয়াক মাহমুদ শাওন, তাসফিরুল ইসলাম তাসফি, ইফতেখার আহমেদ ফাহিম, কাজী রাশিদ আহম্মেদ রাব্বী, গালিব, গোলাম রহমান জিগানী, সাকির হোসেন ফাহিম, অয়ন ও সায়মন।
এ ঘটনার পর ফেনী মডেল থানা পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে মোহাম্মদ জামিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ, মোহাম্মদ তাসফিক ইসলাম, ইসতিয়াক মাহমুদ, শাওন সাইমুন চৌধুরী ও মো. হাসান ইশানসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী ফৌজুল আজীম জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। ফেনীর নবাগত পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বিভিন্ন বিশেষ ইউনিট এ নিয়ে মাঠে কাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ বা উসকানিমূলক তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করা হবে।







