যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এম/ভি এভার লাভলি (M/V Ever Lovely)-তে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ওই হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকার সামরিক অবকাঠামোও হামলার আওতায় এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই অভিযান ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিরুদ্ধে “শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া” এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এটি গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতার পর ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি সামরিক অভিযান। এর ফলে সদ্য প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও হামলার বিষয়ে পাল্টা অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই নতুন সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।







