যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনে ইরানের হামলায় সৃষ্ট প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ্যে তুলে ধরেনি—এমন দাবি ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি।
প্রকাশিত বিশ্লেষণগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের কিছু অংশ, যোগাযোগ অবকাঠামো, গুদাম এবং বিভিন্ন সহায়ক ভবন রয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘাঁটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা সীমিত। এই অবস্থানের সঙ্গে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণভিত্তিক দাবিগুলোর পার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকের ধারণা, যদি স্যাটেলাইটভিত্তিক এসব দাবি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে শুধু বাহরাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সম্ভাব্য সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অর্থনৈতিক হিসাব এখনো কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা স্থানান্তর, নতুন করে সেনা মোতায়েন, অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক ঘাঁটির বিন্যাস পুনর্বিবেচনার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব পরিকল্পনা সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।







