সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব নয়, বরং ‘গরিব মারার প্রকল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এলপিজি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে ডিজেল ও কেরোসিনের দামও লিটারপ্রতি যথাক্রমে ১৫ ও ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিম, মুরগি, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, মুদির দোকানেও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে সমাজের সবচেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষও পরোক্ষভাবে ভ্যাটের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাজেটের বিভিন্ন অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি জানান, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি এক মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনাকে তিনি ‘লুটপাটের সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এ সময় তিনি দেশের ব্যাংক খাতে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, গত ১০০ দিনে দেশে ৬০৫ জন নিহত এবং ১৯৬ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে তিনি দাবি করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি নিজ দলের লোকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে?
লক্ষ্মীপুরের হত্যাকাণ্ড ও দেশজুড়ে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।







