যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্টকম কর্তৃক ইরানের ভূখণ্ডে হামলার জের ধরে পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও উপসাগরীয় দেশ কুয়েত এবং বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির দাবি, রোববারের এই পাল্টা অভিযানে কুয়েতের আলি আল–সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তরসহ অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই হামলার পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সাথে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা সামান্য কোনো অজুহাতে হামলা চালানো হলে, তার কড়া ও বিধ্বংসী জবাব দেবে তেহরান। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা ইরানের উপকূলীয় চৌকিতে বোমাবর্ষণ করেছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা এবং এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি বোমাবর্ষণকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় সপ্তাহ দুয়েক আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা। ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে গেলেও, চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে।
