ভারতের অযোধ্যায় বিতর্কিত মুঘল স্থাপনা বাবরি মসজিদ ভেঙে নির্মিত ঐতিহাসিক রামমন্দিরে অর্থ তছরুপ ও চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনুদানের টাকা চুরির এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ৭৯ লাখ ৮৫ টাকা এবং কিছু বিদেশি মুদ্রা। গ্রেপ্তারকৃতদের আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে সিট জানিয়েছে, মন্দিরের অনুদান বা ক্যাশ ব্যবস্থাপনায় নিয়মের চরম লঙ্ঘন করা হয়েছিল। টাকা গোনার সময় নিয়মানুযায়ী কর্মীদের পকেটবিহীন পোশাক পরার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি, করা হতো না কোনো তল্লাশিও। এমনকি সেখানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী বা সিসিটিভি সুরক্ষাও ছিল না। অনুদান বাক্সের চাবি ছিল রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদবের কাছে, যিনি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক ছিলেন। এই চরম গাফিলতির জেরে গত শুক্রবার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র।
এই জঘন্য কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রথম এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দলের দাবি, সাড়ে সাত থেকে প্রায় ২৭ কোটি টাকা তছরুপের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, শিবসেনা (উদ্ধব) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বিজেপি হিন্দুদের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে খেলা করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি দেশবাসীকে ‘বিজেপি-মুক্ত রাম’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কংগ্রেস দলও এই ইস্যুতে বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সাধারণ ও গরিব মানুষের কষ্টের টাকা এভাবে চুরি হওয়া গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। দলের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং সাড়ে ১২ কোটি পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার হিসাব দাবি করে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্যও অভিযোগ করেছেন যে, মূল অপরাধীদের আড়াল করতেই এফআইআর দায়ের করতে দেরি করা হয়েছে।
তবে বিরোধীদের এই লাগাতার আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিকে রাম মন্দিরের চিরন্তন বিরোধী বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তদন্তের স্বার্থে সিট গঠন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং তদন্ত শেষে দোষী কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
