পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও পানামার দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের উপর্যুপরি ড্রোন হামলার জবাবে শনিবার রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম) এক বিধ্বংসী বিমান ও মিসাইল হামলা চালায়।
এই আকস্মিক অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একাধিক সামরিক পরিকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন হামলার পর পুরো সিরিক শহর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়।
এই রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার নজিরবিহীন ও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলের রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকান সেনা। মনে হচ্ছে, ওদের কোনো দিনই শিক্ষা হবে না।’ তিনি আরও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, আমেরিকা আর কোনো সংযম দেখাবে না এবং ইরান যদি আবারও চুক্তি ভঙ্গ করে, তবে মার্কিন সেনা এমন অভিযান চালাবে যে পৃথিবীতে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান’ বলে আর কোনো দেশের অস্তিত্বই থাকবে না।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরান পরপর দুবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। প্রথমত, শুক্রবার ‘এভার লাভলি’ নামে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে এবং দ্বিতীয়ত, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালীতে ‘এম/টি কিকু’ নামে পানামার পতাকাবাহী ২০ লক্ষ ব্যারেল তেলবাহী একটি জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। এই জোড়া হামলার কারণেই আমেরিকা পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে বাহরিন দাবি করেছে, ইরান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে একাধিক ড্রোন পাঠিয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিরাট হুমকি।
আমেরিকার এই বিধ্বংসী হামলা ও ট্রাম্পের চরম হুমকির পর পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-ফিকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় তাঁদের সার্বভৌমত্বে আঘাত করা হয়েছে এবং এর এমন বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে যা গোটা পরিস্থিতি বদলে দেবে। ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আমেরিকার সেনারা এবার দীর্ঘ ও অন্তহীন রাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান নিজের শক্তির প্রমাণ দেবে।’ দুই পারমাণবিক শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে পশ্চিম এশিয়ায় ফের এক সর্বাত্মক যুদ্ধের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে।







