জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যায় অভিযুক্ত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ভূমিকাসহ একটি বিতর্কিত বই প্রকাশ ও বিক্রি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। “The Yunus Files: Unmasking a Fake Saint” নামের এই বইটি প্রকাশ করেছে নালন্দা প্রকাশনী এবং এটি অনলাইন বুকশপ রকমারি ডটকম ও বাতিঘরসহ বেশ কিছু প্ল্যাটফর্মে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বইটির লেখক আমিনুল হক পলাশ নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং পলাতক এনএসআই (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তিনি এনএসআইতে কর্মরত থাকলেও গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব করে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে তিনি অনলাইনে বসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভুয়া খবর ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। বইটিতেও জুলাই অভ্যুত্থান এবং ড. ইউনূসকে হেয় প্রতিপন্ন করে বিভিন্ন কন্টেন্ট সাজানো হয়েছে।
বইটির সহলেখক প্রবীর বিধান (প্রবীর কুমার সরকার) এক সময় ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) নিয়মিত আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে নিয়ে তাঁর লেখা “The Dark Prince” নামক একটি বই রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ট্রিবিউনের বিভিন্ন কলামে তিনি বিগত ২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমল, হাওয়া ভবন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
বইটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক শেখ হাসিনার দীর্ঘ ভূমিকা থাকা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক নেতার প্রোপাগান্ডামূলক বই বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। সুশ্মিট আষিফ নামে একজন লিখেছেন, বাতিঘর কীভাবে একজন পলাতক গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রোপাগান্ডাকে প্রোমোট করে। অন্যদিকে তাহমিদুল ইসলাম নামে আরেকজন লিখেছেন, ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও ভারতের প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবেই এই বই ছাপা হয়েছে; এই বই প্রকাশ ও বিক্রির বিষয়ে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তীব্র প্রতিবাদের মুখে রোববার সন্ধ্যায় বাতিঘর তাদের ফেসবুক পেজ থেকে বইটির বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয়। তবে রকমারি ও বাতিঘরের ওয়েবসাইটে এর লিংক সচল দেখা গেছে। এ বিষয়ে বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ জানান, প্রকাশকরা বই পাঠালে তাঁরা তা বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেন। বইটিতে শেখ হাসিনার ভূমিকা রয়েছে কিংবা লেখক পলাশ একজন পলাতক গোয়েন্দা কর্মকর্তা—সেটি প্রথমে তাঁদের জানা ছিল না। লাখ লাখ বইয়ের ভেতর এভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না, তবে বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁরা বইটির বিক্রি বন্ধ (স্টপ) করে দিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কিত এই বইটি প্রকাশ করা নালন্দা প্রকাশনীর ফেসবুক পেজে গত ২৫ জুন এটির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রকাশনীর নম্বরে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, নালন্দার মূল প্রকাশক বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জাহিদুল ইসলাম তুহিন নামে একজন পরিচালনা করছেন, যিনি ওই মুহূর্তে ফোনের কাছে ছিলেন না।
