জুলাই বিপ্লবকে টোটালি বিক্রি করছে বিএনপি এবং ছাত্রদল বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও গুরুতর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে যারা নিজেদের অসহায় এবং মজলুম হিসেবে তুলে ধরত, ক্ষমতা বা সুবিধার গন্ধ পেয়েই তারা এখন জালেম চরিত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষাই ছিল রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার, কিন্তু এখন দুঃখজনকভাবে সেই সংস্কারকে অগ্রাহ্য করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিবির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি তাদের নিজেদের দেওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’র সাথেই এখন স্পষ্ট প্রতারণা করছে। তারা অতীতে বলেছিল যে ক্ষমতায় গেলে বা ভবিষ্যতে দলীয় প্রশাসকের নিয়োগ দেবে না, কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি সেক্টরেই দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও দখলের রাজনীতি শুরু হয়েছে। জুলাইয়ের গণভোট বা স্থায়ী সংস্কারের দাবিতে তারা এখন তীব্র অনীহা দেখাচ্ছে, যা মূলত শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার শামিল।
বিপ্লবের শহীদদের তালিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি এক ধরনের নোংরা ব্যবসা শুরু করেছে। তারা নিজেদের মনগড়া তালিকা দিচ্ছে এবং সেখানে শিবিরের শহীদদের নাম দেখলেই বারবার সেই তালিকা পরিবর্তন ও সংশোধন করছে। রাষ্ট্রের কাঠামোগত দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের চেয়ে স্রেফ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কীভাবে দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়া যায়, সেটিই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক জরুরি অধ্যাদেশগুলো মাঠপর্যায়ে কার্যকর করার ক্ষেত্রে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের জোরপূর্বক অপসারণ করা হচ্ছে কারণ তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের দাসত্ব করতে রাজি হচ্ছেন না। একই সাথে আওয়ামী লীগের অনেক চিহ্নিত অপরাধীকে এখন পর্দার আড়াল থেকে জামিন দিয়ে পুনর্বাসন করার একটা অশুভ চেষ্টা চলছে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অত্যন্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের ছাত্র-জনতার ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের এই মহান ও ঐতিহাসিক অর্জনকে কোনোভাবেই কোনো সুবিধাবাদী বা লুটপাটকারী গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখতে দেশের তরুণ সমাজকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।
