জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ভারতে যেভাবে মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটে, বাংলাদেশে কি একই হারে মন্দির ভাঙা হয়—এ প্রশ্নের উত্তরও আলোচনায় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হোক, সেটিও সরকার চায় না।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মাটি প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক, সেটা আমরা চাই না। একইভাবে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীরা নাক গলাক, সেটাও আমরা চাই না।”
এ সময় তিনি বলেন, “ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, বাংলাদেশে কি সে হারে মন্দির ভাঙা হয়?” এ বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
চিফ হুইপ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ভারত কীভাবে দেখেছে, তা দেশটির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে।
বাজেট প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাজেট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা হয়েছে। কেউ এটিকে ভালো বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে চাই। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত প্রথম বাজেট। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো বাজেটে বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য রেখেছেন এবং বিরোধী দলের নেতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।
চিফ হুইপ বলেন, বিরোধী দলকে তাদের ইচ্ছামতো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত বাজেট আলোচনার নির্ধারিত সময় শেষ হলে সরকার গিলোটিন প্রস্তাব আনে। তবে সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দলের নেতাই স্পিকারের কাছে গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পরে বিরোধী দল তাদের ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলেই তারা মনে করেছে।
