জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, বাংলাদেশে কি সে হারে মন্দির ভাঙা হয়—এই প্রশ্নের উত্তরও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত এক বাজেট-পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে চিফ হুইপ স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড যেন কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে না পারে, সেটিও বর্তমান সরকার নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীরা নাক গলাক, সেটা আমরা চাই না।’
আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভারতের মনোভাবের প্রসঙ্গে টেনে চিফ হুইপ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ভারত কীভাবে নিয়েছে, তা দেশটির বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং কূটনৈতিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করলেই খুব সহজে অনুধাবন করা যাবে।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাজেট নিয়ে দেশে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিশ্লেষণ ও গভীর আলোচনা হয়েছে। অনেকে এটিকে ইতিবাচক বাজেট বলেছেন, আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত প্রথম বাজেট।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সাধারণ বাজেটে বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
চিফ হুইপ বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য রেখেছেন এবং বিরোধী দলের নেতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। তাদের ইচ্ছামতো বক্তব্য দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারপক্ষ থেকে তাদের সব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়েছে।
সংসদীয় ইতিহাসের এক অনন্য নজিরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণত বাজেট আলোচনার নির্ধারিত সময় শেষে সরকারপক্ষ থেকে ‘গিলোটিন’ প্রস্তাব আনা হয়। তবে সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দলের নেতাই স্বয়ং স্পিকারের কাছে গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে বিরোধী দল তাদের উত্থাপিত সব ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। এতে এটিই প্রমাণিত হয় যে, বাজেট নিয়ে সংসদে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও প্রয়োজনীয় আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিরোধী দলও মনে করেছে।
