চট্টগ্রাম নগরীর জেলগেট থেকে লালদীঘি হয়ে কোতোয়ালি মোড়—দূরত্ব খুব বেশি না হলেও এই স্বল্প পথেই রয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সিএমপি সদর দপ্তরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বাণিজ্যিক কার্যালয়। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকার কথা যে করিডোরে, সেখানেই এখন দিনদুপুরে যাত্রীবাহী বাসে সংঘবদ্ধ ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগ উঠছে।
সর্বশেষ গত শনিবার বিকালে জেলগেট এলাকায় ৬ নম্বর বাসে সাত-আটজনের একটি ছিনতাইকারী দল উঠে যাত্রীদের ঘিরে ধরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরো ঘটনা কয়েক মিনিট ধরে চললেও সেখানে কোনো দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি বা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ দেখা যায়নি। ঘটনা চলাকালে বাসের চালক ও হেলপারও ছুরিকাঘাতের ভয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই করিডোরসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বাস করিডোরে যাত্রীরা নিয়মিত ছিনতাই, পকেটমার বা হয়রানির আশঙ্কায় চলাচল করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও নিউ মার্কেট এলাকায় চলন্ত বাস থেকে এক নারী আইনজীবীর গলার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ বাসসহ চালক ও হেলপারকে আটক করেছিল।
নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি বাস করিডোরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জেলগেট-লালদীঘি-কোতোয়ালি, স্টেশন রোড-নিউ মার্কেট, বহদ্দারহাট-চান্দগাঁও, মুরাদপুর-জিইসি, অক্সিজেন-দুই নম্বর গেট, টাইগারপাস-দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ-বাদামতলী, কর্নেলহাট-একে খান, অলংকার-ইপিজেড এবং শাহ আমানত সেতুসংলগ্ন রুট। প্রতিটি রুটে ভিড়ের সুযোগে পকেটমারি, মোবাইল টান দেওয়া কিংবা নারী যাত্রীদের হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জেলগেট থেকে কোতোয়ালি পর্যন্ত এলাকাটি কোতোয়ালি থানার অধীনে হলেও এখানে ট্রাফিক, থানা পুলিশ, ডিবিসহ একাধিক ইউনিট দায়িত্ব পালন করে। ফলে দায়িত্ব একাধিক ইউনিটের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ‘সবাই দায়িত্বে কিন্তু কার্যত কেউ দায় নিচ্ছে না’—এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা না করায় অপরাধের প্রকৃত চিত্র সরকারি নথিতে আসছে না।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর জানান, জেলগেট এলাকার ঘটনাটিতে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল জোরদার এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, দায়িত্ব নেওয়ার পর সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
