আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস রুলস অব প্রসিডিওরের ৩৪(১) বিধি অনুযায়ী পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলালুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম আবেদন মঞ্জুর করে ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকালে আল্লামা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেন সুখরঞ্জন বালী। সে সময় পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক একটি ডাবল কেবিন গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর তাকে চোখ বেঁধে প্রায় দুই মাস অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ বছর আটক থাকার পর তার ছেলে অপূর্ব বালী জামিনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনেন।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঘটনার দিন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দুটি ডাবল কেবিন গাড়িতে করে ফজলুর রহমান ও তার সহযোগীরা সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, এ ঘটনায় ফজলুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
