জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা এলাকায় গোপনে দুই নারী শিক্ষার্থীর ছবি তোলার অভিযোগে আটক হয়ে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পাওয়া ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চৌধুরীর (৪৫) বিরুদ্ধে অতীতে একটি আলোচিত ধর্ষণ মামলা থাকার তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৮ সালে ঢাকার ধামরাই থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে জাবির বটতলা এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার সময় দেবাশীষ চৌধুরীকে হাতেনাতে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মীরা। আটকের পর তার গাড়ি তল্লাশি করে দুটি বিয়ারের ক্যানও উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যাওয়ার পর দেবাশীষ চৌধুরী লিখিত স্বীকারোক্তিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না বলে মুচলেকা দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়। তবে এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা না করে কেবল লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং ঘটনাটি পুনর্বিবেচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ধামরাই থানায় দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছিল। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এক নারী সহযোগীর মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে একটি গুদামঘরে রাতভর ধর্ষণ করা হয়, যেখানে দেবাশীষ চৌধুরী ছিলেন প্রধান আসামি। তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ঘটনার পর সহযোগীকে গ্রেফতার করা হলেও প্রধান আসামি দেবাশীষ পলাতক ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের একাংশের ক্ষোভ ও পুনর্তদন্তের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরাই প্রথমে লিখিত মুচলেকা ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের দেওয়া নতুন আবেদনটি প্রশাসনের কাছে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উদ্ধার হওয়া বিয়ারের ক্যান প্রসঙ্গে সহকারী প্রক্টর বলেন, অনেকে মাদকের বিষয়টি তুলছেন, তবে আইন অনুযায়ী মামলা করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আলামত থাকতে হয়, যা দুটি বিয়ারের ক্যানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এছাড়া তাকে সরাসরি মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায়নি এবং ক্যানগুলো তার পকেট থেকে নয়, বরং বহন করা ব্যাগ বা গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের পুরনো ধর্ষণ মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই তথ্য জানত না। এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিষয়। তবে অভিযুক্তের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। পুলিশকে এই বিষয়ে অবহিত করা হলে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা বা অপরাধসংক্রান্ত পূর্ব ইতিহাস আছে কি না, তা আইনগতভাবেই যাচাই করা হবে।







