কেপ ভার্দের বিপক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য জয়ের পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে আলবিসেলেস্তেদের এই স্বস্তির জয়ের পর শুধু লিওনেল মেসিদের পারফরম্যান্স নয়, ফুটবল অঙ্গনে তুমুল আলোচনায় এসেছে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তের একটি বিতর্কিত দৃশ্য। চোট পেয়ে মাঠের বাইরে যাওয়া ডিফেন্ডার নিকোলাস টাগলিয়াফিকোকে কর্নারের ঠিক আগ মুহূর্তে দ্রুত মাঠে ফেরানো নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
নাটকীয় এই ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ১১৫তম মিনিটে, যখন আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই করছিল। ওই সময় বাম দিক থেকে কেপ ভার্দে একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক পায়, যা সিডনি লোপেস কাবরালের শট থেকে চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তবে সেই বক্সের ভেতরের জটলায় নাকে মারাত্মক আঘাত পান টাগলিয়াফিকো এবং তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় কিছুক্ষণ মাঠে পড়ে থাকার পর রেফারি ড্রু ফিশার নিয়ম অনুযায়ী টাগলিয়াফিকোকে মাঠের বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দেন, কারণ রক্ত লেগে থাকা জার্সি নিয়ে মাঠে খেলার নিয়ম নেই। মাঠের ঠিক লাইনের বাইরে গিয়েই দ্রুত চিকিৎসা নেন আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার এবং নাকের রক্ত বন্ধ করা হয়। ঠিক এই সময়ে কেপ ভার্দে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্নার নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছিল।
মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় ঠিক এখানেই। অভিযোগ উঠেছে, ফিফার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী চোট বা রক্তপাতের কারণে কোনো খেলোয়াড় মাঠের বাইরে গেলে তাঁকে অন্তত এক মিনিট বা খেলা পুনরায় সচল হওয়ার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু টাগলিয়াফিকো প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথেই রেফারি তাকে মাঠে ফেরার অনুমতি দেন এবং তিনি পজিশনে যাওয়ার পর কেপ ভার্দেকে কর্নার মারার বাঁশি দেওয়া হয়। আফ্রিকার দলটি তখন আর্জেন্টিনার একজন কম খেলোয়াড় থাকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
স্প্যানিশ নামী সংবাদমাধ্যম ‘এএস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেফারির এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত মাঠের ভেতরে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের মধ্যেও চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের তৈরি করে। নকআউট পর্বের মতো এমন একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মুহূর্তে আর্জেন্টিনা কোনো বাড়তি বা অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল বিতর্ক চলছে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রেফারির ম্যাচ পরিচালনার তাৎক্ষণিক প্রোটোকলের ওপর। মাঠে অফিসিয়াল চিকিৎসক প্রবেশ করেছিলেন কি না কিংবা রেফারি কোন বিশেষ ধারায় খেলা সাময়িক স্থগিত রেখেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাঠে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জিতে মাঠ ছাড়লেও, কেপ ভার্দের শেষ মুহূর্তের সেই বীরত্বপূর্ণ লড়াই এবং টাগলিয়াফিকোর নাটকীয়ভাবে মাঠে ফেরা চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় বিতর্ক হিসেবে রূপ নিয়েছে।







