ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় দিনের জানাজা ও শোক মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরান এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। শোকের মিছিলে শরিক হতে সকাল থেকেই লাখ লাখ মানুষ তেহরানের রাজপথে নেমে আসেন। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া লাখো জনতাকে খামেনি হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার ডাক দিতে দেখা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে খামেনির জানাজা ও শোক মিছিলে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাগম প্রত্যক্ষ করা গেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল মিছিলটি শুরু হয়। এই কমপ্লেক্সেই সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ দুই দিন রাখা হয়েছিল।
এবারের শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তীব্র মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। শোকার্ত জনতা এ সময় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ (Kill Trump) লেখা বড় বড় ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। বিশেষভাবে তৈরি সেই ব্যানারটিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামের ওপর দিয়ে একটি বুলেট চলে যাওয়ার প্রতীকী দৃশ্যও ফুটিয়ে তোলা হয়।
এছাড়াও মিছিলে অংশ নেওয়া অন্য শোকাহতরা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেসব প্ল্যাকার্ডে অত্যন্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা ছিল, ‘সেখানেও রক্তপাত হবে’ (There will be bloodshed there too)।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর আয়োজিত এই বিশাল সমাগমকে ইরানি কর্তৃপক্ষ পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের জাতীয় ঐক্য, শক্তি এবং প্রতিরোধের এক বড় বার্তা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চাইছে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির কফিন ক্রমান্বয়ে পবিত্র নগরী কোম, প্রতিবেশী দেশ ইরাক এবং সবশেষে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে।







