মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’-এর স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিংক’ এবার বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশ নেপাল ও ভুটানে উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে প্রস্তুত। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল সংযোগ ও আঞ্চলিক ব্যান্ডউইথ হাব হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।
বাংলাদেশ সরকার স্টারলিংককে আন্তঃসীমান্ত আনফিল্টার্ড ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র (রেগুলেটরি ক্লিয়ারেন্স) প্রদান করেছে। এই বিশেষ অনুমতির ফলে স্পেসএক্স বাংলাদেশে তাদের গ্রাউন্ড স্টেশন বা অবকাঠামো ব্যবহার করে সরাসরি প্রতিবেশী দেশগুলোর গ্রাহকদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে পারবে।
এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রাইভেট লিজিং সার্কিট বা আইপিএলসি (IPLC) লিঙ্ক ব্যবহার করার অনুমতি পেয়েছে স্টারলিংক। একটি দীর্ঘমেয়াদী ৩ বছরের চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) হবে এই প্রকল্পের প্রধান ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী। বিএসসিসিএল-এর অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক ও ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমেই নেপাল ও ভুটানের ট্র্যাফিক স্টারলিংকের গ্লোবাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।
নিরাপত্তা ও ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই কার্যক্রমে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ট্র্যাফিক আন্তর্জাতিক ট্র্যাফিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা (আইসোলেটেড) থাকবে। এর ফলে স্টারলিংকের আঞ্চলিক কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা বা ব্যান্ডউইথ গতিতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
হিমালয় কন্যা খ্যাত নেপাল ও ভুটানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে সেখানে প্রথাগত ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌঁছানো বেশ ব্যয়বহুল ও কঠিন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্টারলিংকের এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক দুই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
