ফুটবল বিশ্বকাপের তীব্র উত্তেজনার মাঝেই মাঠের বাইরের একটি ঘটনা ক্রীড়াঙ্গন ও মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ফুটবল দলের তরুণ ফরোয়ার্ড টেটে ইয়ঙ্গি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ২৫ বছর বয়সি এই ফুটবলার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার ঠিক আগে নিজ শহর এডিলেডের একটি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার মুফতি মেঙ্ক। তাঁর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই টেটে ইয়ঙ্গি মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হতে পবিত্র কালিমা শাহাদাত পাঠ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে বিষয়টি বেশ সাড়া ফেলেছে।
পরে এক সাক্ষাৎকারে ইয়ঙ্গি জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য আকস্মিক বা তাৎক্ষণিক কোনো বিষয় ছিল না। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ইসলাম ধর্মের নিয়ম-কানুন, আদর্শ ও শিক্ষা সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে এবং বুঝতে আগ্রহী ছিলেন। মসজিদে মুফতি মেঙ্কের সঙ্গে সাক্ষাতের এক পর্যায়ে তিনি জানতে চান, ইয়ঙ্গি শাহাদাহ পাঠ করেছেন কি না। জবাবে ইয়ঙ্গি ‘না’ সূচক উত্তর দিলে মুফতি মেঙ্ক তাকে তখনই তা করার সাদর আমন্ত্রণ জানান। ইয়ঙ্গি এই আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেন এবং সেখানেই শাহাদাহ পাঠ করেন।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে খেলছেন এই স্ট্রাইকার। ১.৯৭ মিটার উচ্চতার ইয়ঙ্গি বিশ্বকাপের ঠিক আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নিজের আন্তর্জাতিক অভিষেকেই দুর্দান্ত গোল করে দলকে ড্র এনে দেন। সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপের মূল পর্বেও কোচ টনি পপোভিকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে টেটে ইয়ঙ্গি বলেন, তিনি তাঁর এই নতুন ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। মাঠে ও মাঠের বাইরে নিজের সুন্দর আচরণ, সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও মানবিকতার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের সৌন্দর্য এবং প্রকৃত শান্তির শিক্ষা তুলে ধরতে চান এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা।







