যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (FBI) নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোতে পরিচালিত এক বিশাল আন্তর্জাতিক অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি সংগঠিত অপরাধচক্রের ২৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘অপারেশন হার্ডবল’ নামের এই বহুজাতিক অভিযানে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ তিনটি কুখ্যাত আন্তর্জাতিক অপরাধ সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে চালানো এই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চুক্তিভিত্তিক হত্যা (মার্ডার-ফর-হায়ার), আন্তর্জাতিক মাদক পাচার, জবরদস্তিমূলক বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় এবং অস্ত্র চোরাচালানের মতো অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দীর্ঘ কয়েক বছরের গোপন তদন্তের পর সম্প্রতি এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক এই অপরাধ সিন্ডিকেটগুলোর মূলহোতা লরেন্স বিষ্ণোই এবং জগ্গু ভগবানপুরিয়া ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকেই চোরাই মোবাইল ও বিশেষ ইন্টারনেট অ্যাপ ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছিল। এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ১ হাজার কেজি কোকেন, ১ কেজি হেরোইন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ডজনখানেক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে।
প্রকাশিত মার্কিন আদালতের চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় শিখ নেতা হারদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার পেছনে সরাসরি এই বিষ্ণোই গ্যাং জড়িত ছিল। ভারতের পাঞ্জাবের লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার প্রধান সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই অপরাধীরা মূলত প্রবাসী ভারতীয় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের নিশানা করে ভীতি ও সহিংসতার রাজত্ব তৈরি করার চেষ্টা করছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে এই চক্রটি প্রায় ৫০ লাখ ডলার চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছিল বলেও মার্কিন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে। এই বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিস, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ, কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করেছে।







