নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে জেলা ওলামালীগের এক নেতার বিরুদ্ধে ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালিত মাদরাসার এক শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানি ও মানসিকভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. সোলায়মান হোসেন (৩৫) জেলা ওলামালীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং আটপাড়া উপজেলার রামসিদ্ধ গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা স্থানীয় একটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় কর্মরত রয়েছেন। অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেনও পূর্বে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে মোহনগঞ্জের ওই মাদরাসায় একসঙ্গে কর্মরত থাকাকালীন সময় থেকেই সোলায়মান ওই শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া অশালীন মন্তব্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগে একবার স্থানীয় লোকজন সোলায়মানকে হাতেনাতে আটকও করে। পরবর্তীতে তিনি আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় বদলি হয়ে যান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বদলি হওয়ার পরও সোলায়মান হোসেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবারের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ অব্যাহত রাখেন। তিনি শিক্ষিকার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং পূর্বের সব অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পার পেয়ে যান বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন।
সর্বশেষ গত ২১ জুন জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন। এ সময় তিনি অশালীন ভাষায় গালাগাল করাসহ জোরপূর্বক ধস্তাধস্তির চেষ্টা চালান। এই ঘটনার পরদিনই (২২ জুন) ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। তবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন রয়েছি। এই কারণে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সুস্থ হয়েই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সোলায়মান হোসেন দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা এই শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি পাল্টা দাবি করেন, ওই শিক্ষিকার একটি একাডেমিক সনদ জাল, যা নিয়ে তিনি নিজে জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনে অভিযোগ দেওয়ার কারণেই তাঁকে এভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।







