চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মাটিতে পুঁতে ফেলার প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. রায়হান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আল মামুন শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলা বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং চবি ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিখিত অভিযোগপত্রে রায়হান উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে একটি বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের স্লুইস গেট এলাকা থেকে তাঁকে জোরপূর্বক ব্রিক ফিল্ড এলাকায় তুলে নিয়ে যান অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মামুন ও তাঁর সঙ্গীরা।
সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে ছাত্রত্ব বাতিল এবং মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দিয়ে জোর করে একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে তিনি ক্যাম্পাসে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান সাংবাদিকদের জানান, “আমি ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল ফিল্ডে ছিলাম। সেখান থেকে মামুন ও তাঁর সাথে থাকা কয়েকজন আমাকে ডেকে নিয়ে পূর্বের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। পরে আমাকে ব্রিক ফিল্ড এলাকায় নিয়ে গিয়ে মারধর, ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ওই জোরপূর্বক ভিডিওটি ধারণ করা হয়।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চবি ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আল মামুন। তিনি বলেন, “ওই শিক্ষার্থী আগের সংঘর্ষে আমাদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। সেদিন কেবল হাঁটতে হাঁটতে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাকে মারধর, হুমকি বা জোরপূর্বক ভিডিও ধারণের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে খুব শিগগিরই দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৯ জুন ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ৩০ জুন রাতে জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। পরে প্রক্টরের সামনেই ছাত্রশক্তির এক নেতাকে মারধর এবং সংবাদকর্মীদের হেনস্তার অভিযোগও উঠেছিল।







