জনকল্যাণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মানবসেবার এক ঐতিহাসিক সিলসিলা বা ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক দশক আগের একটি আলোকচিত্রে দেখা যায়, বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন ও জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বন্যায় পানিবন্দী অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন। আর তাঁর ঠিক বামদিকে মাইক হাতে দাঁড়িয়ে আছেন জামায়াতের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তৎকালীন সময়ে সিলেটে ভয়াবহ বন্যাদুর্গতদের মাঝে কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য গিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেই সময় তিনি নিজের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন স্থানীয় নেতা ও বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানকে। মূলত অতীত থেকেই জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এভাবেই দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর হাতে-কলমে শিক্ষা ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলসহ সব ধরণের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও দেশের প্রতিটি বড় বড় দুর্যোগ ও দুর্ভোগে এদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। যখনই বাংলাদেশের মানুষ বড় কোনো সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, সেখানেই সবার আগে সাহায্য নিয়ে ছুটে গেছেন তিনি।
দুর্যোগে জামায়াত আমিরের এই অগ্রণী ভূমিকা ও জনকল্যাণমূলক কাজ দেশের রাজনীতিতে বেশ প্রশংসিত হলেও, কোনো কোনো রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে ভিন্ন চর্চাও লক্ষ্য করা যায়। তবে সব সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে মাঠপর্যায়ে দলটির মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২২ সালে সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় সিলেটবাসীর পাশে দাঁড়াতে তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়েছিলেন জামায়াত আমির. এরপর ২০২৪ সালে ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল যখন স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ডুবে গিয়েছিল, তখনও তিনি নিজে ত্রাণ নিয়ে দুর্গত এলাকায় যান। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান ২০২৬ সালের চট্টগ্রাম অঞ্চলেও জাতীয় পর্যায়ের অন্য যেকোনো শীর্ষ রাজনীতিকের আগেই তিনি ত্রাণ ও উদ্ধারসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন।
কেবল বন্যা নয়, দেশের বড় বড় অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায়ও জামায়াত আমিরকে সম্মুখভাগে দেখা গেছে। ২০২২ সালের জুনে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি তাঁর বিশাল স্বেচ্ছাসেবী টিম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সেখানে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তাৎক্ষণিক ৩০ লাখ টাকা অর্থ সাহায্যের ঘোষণা দেন।
এর বাইরেও রাজধানীর উত্তরার একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আল্লামা সাঈদীর দেখানো জনকল্যাণের সেই পথ ধরেই বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর সেবামূলক কার্যক্রমকে দেশব্যাপী এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।







