চট্টগ্রাম বিভাগে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের কারণে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি ও আকস্মিক বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পাঁচ জেলার অন্তত ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে। সেখানে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জনই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। এছাড়া এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে আটজন, বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙ্গামাটিতে দুজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ জেলার ১৬টি উপজেলার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় দুই উপজেলার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সেখানে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাতকানিয়ার কাছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল করলেও, পাহাড়ি ঢল ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।
