ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বোমাবর্ষণের জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনের টানা তিনবারের হামলার পর এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর রসদ সরবরাহ ও জ্বালানি ভরার প্রধান স্থাপনায় তারা ‘ভারী ও আকস্মিক’ হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফল এই অভিযানের ফলে মার্কিন ওই কৌশলগত স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বোমা হামলার জবাবে তাদের পাল্টা অভিযানের তৃতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
একই সময়ে কাতারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি ‘আল উদেইদ’ বিমানঘাঁটিতেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং ঘাঁটির মূল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একঝাঁক আত্মঘাতী ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। কুয়েতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি বড় গোলাবারুদের গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এর পাশাপাশি বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্টেশনকে লক্ষ্য করেও সফল ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অব্যাহত আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব হিসেবেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়েছে।
