গাইবান্ধায় এশিয়ার সর্ববৃহৎ ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও হিন্দু নেতাদের অপদস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শীর্ষ তিনটি সংগঠন—বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাইবান্ধা জেলা শাখার নেতারা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, হরিদাস চন্দ্র তরণী উপজেলার মধ্যরামপুর গ্রামে নির্দিষ্ট কালী মন্দিরের জায়গা থেকে কিছুটা দূরে নিজের ইচ্ছামতো কিছু সদস্য নিয়ে রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। মন্দিরের স্থান পরিবর্তন নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নেতারা অভিযোগ করেন, এই উত্তেজনাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হরিদাস সেখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা স্থাপনসহ ৮১ ফুট দীর্ঘ শ্রী রামের প্রতিমা স্থাপন করেন, যা নিয়ে এলাকায় বড় ধরনের বিপত্তি দেখা দেয়। হরিদাসের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে ওই এলাকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উপক্রম হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনটি সংগঠনের ধর্মীয় নেতারা হরিদাস চন্দ্রকে তাঁর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ পরিহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে বিভিন্ন কটু মন্তব্য করা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু তিনি সেই আহ্বান তোয়াক্কা না করে উল্টো হিন্দু নেতাদের নানাভাবে অপমান ও অপদস্ত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই অপমানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নেতারা আরও জানান, হরিদাসের বিরুদ্ধে এলাকায় বহু আগে থেকেই প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ধর্মান্তরিত হওয়া, ধর্মের নামে ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন মন্দির ও শ্মশান দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নতুন রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সব সনাতনীদের নিয়ে একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে হরিদাসের বিতর্কিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন জেলা ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
