আওয়ামী লীগের পলাতক সাইবার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত কাজী মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বাড়ি ও তাঁর ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজী মামুনের এমন তৎপরতা নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কাজী মামুনের দেওয়া ওই হুমকিসূচক পোস্টে খোদ চিফ প্রসিকিউটরের সন্তানের পরিচয় এবং তিনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন—সেই সংবেদনশীল তথ্য মন্তব্য আকারে প্রকাশ করে দিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে প্রকাশ্যেই ফ্যাসিবাদের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ভারতে পলাতক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর দমনপীড়ন চালানো এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর রক্তে হাত রাঙানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ এই কর্মকর্তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে বহাল ছিলেন এবং ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও তাঁকে কেবল ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখা হয়েছে। ফলে তিনি এখনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও জনগণের করের টাকায় বেতন পাচ্ছেন, যা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের সাবেক প্রধান জায়েদুল আহসান পিন্টুও বর্তমান পরিস্থিতিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত আছেন এবং তাঁর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের খোলামেলা অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তুলছে।
বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও সুবিধাভোগী এই চক্রটি এখনো প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের পরোক্ষ হুমকিধমকি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসন এসব বিষয় দেখেও না দেখার ভান করে আছে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
