বাগেরহাটে নিহত কৃষক দল নেতা শহীদ বাদল হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং নবনির্বাচিত সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বাদল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে এই প্রতিবাদ সভার মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের ঠিক পেছনের ব্যানারে স্পষ্টাক্ষরে ‘জামাত শিবির সন্ত্রাসী’ লেখাটি দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের পদটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং সব দলের ঊর্ধ্বে। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যানারে, বিশেষ করে যেখানে অন্য একটি নিবন্ধিত বা সক্রিয় রাজনৈতিক পক্ষকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, এমন মঞ্চে ডেপুটি স্পিকারের আসন গ্রহণ করা সংসদীয় রীতিনীতি ও নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। এই ঘটনায় তিনি পদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।
বিতর্কিত এই সভার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগে নিহত কৃষক দল নেতা শহীদ বাদলের কবর জিয়ারত ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। কবর জিয়ারত শেষে ওই হামলায় গুরুতর আহত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ মোড়লের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা শহীদ বাদল হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার মাধ্যমে এই অঞ্চলের গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড দমিয়ে রাখা যাবে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “শহীদ বাদলের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে।” তিনি অনতিবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এবং আহত আব্দুল্লাহ মোড়লের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ৯০-এর ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা সিপিও রফিকুল ইসলাম জগলু, সাবেক সচিব ফরিদুল ইসলাম বাবলু, জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম এবং সদস্য সচিব মুজাফফর রহমান আলমসহ বিএনপি, কৃষকদল ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা।
