চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে মারধর না করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় এবং তওবা করানোর মাধ্যমে এক অভিনব উপায়ে সংশোধন করে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সোনাপাহাড় ফকির আস্তানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম রেজাউল করিম (৩৫)। তিনি স্থানীয় মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটলেও চোরকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে একটি মোবাইল ফোন ও প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির সময় স্থানীয়রা রেজাউল করিমকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে শুক্রবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করতে বলা হয়। সেখানে উপস্থিত জনসাধারণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে শাস্তিস্বরূপ তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে জড়াবেন না—এই শর্তে তওবা করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান এই বিষয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ ছিলেন এলাকাবাসী। শুক্রবার হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সে যেন ভবিষ্যতে আর এমন পথ বেছে না নেয়, সেজন্য তাকে তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়েছে।’
তবে আইনগতভাবে বিষয়টি সঠিক পদ্ধতি ছিল না বলে জানিয়েছেন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই, কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ জানায়নি। তবে চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে আইন অনুযায়ী তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল।’







