ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে (পিআইও) ঢুকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদের নেতৃত্বে কয়েকজন অনুসারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে যান। এ সময় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য চাইলে অফিস সহকারীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। অফিস সহকারীর অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় জানালে রাইসুল ইসলাম রিশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
হুমকির ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে ঘটনার পরদিন বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা তাঁর কার্যালয়ে বসে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে একটি ভিডিও বার্তা দেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৭ ও ১৮৮ ধারায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পৌর ছাত্রদল নেতা রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তাঁর দাবি, এলাকার একটি সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য জানতে তিনি পিআইও কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এরপরও কেউ সরকারি কাজে বাধা দিলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পরও কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি না হওয়ায় প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল ভিডিও বার্তা নয়, বরং কার্যকর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
