নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টির পর মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার (লতা)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শুক্রবার (১৭ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ১৪ জুলাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে ওই নিষ্পাপ শিশুর ওপর অমানুষিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির পা মুচড়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর জেলা প্রবেশন অফিসার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার রাত ৮টায় র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্প কমান্ডার আরিফুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার লতা আত্মগোপনে রয়েছেন। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের এই পাশবিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, এই নৃশংস শিশু নির্যাতন মামলায় এর আগে প্রধান আসামি লতার স্বামী কাউছার আহম্মেদ এবং তাঁর শ্বশুর আলমাছ মিয়াকেও গ্রেপ্তার করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।







